তিনি বলেন, রবিউল আউয়াল মাস মুসলিম উম্মাহর জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এ মাস মহানবী হযরত মুহাম্মদ ﷺ-এর জন্ম ও ওফাতের স্মৃতিবিজড়িত। মহানবী ﷺ-এর উম্মত হওয়া আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি বড় নিয়ামত। এ নিয়ামতের স্বীকৃতি হলো তাঁর প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা হৃদয়ে ধারণ করা, তাঁর সীরাত জানা এবং তাঁর শরিয়াহ ও সুন্নাহর প্রতি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে পূর্ণ আনুগত্য প্রতিষ্ঠা করা।
মাওলানা মাসউদুর রহমান বলেন, রবিউল আউয়াল মাসকে সীরাত পাঠ, দরুদ পাঠ এবং মহানবী ﷺ-এর জীবনাদর্শ চর্চার মাধ্যমে কাজে লাগানো উচিত। মহানবী ﷺ-এর জীবন ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে একটি পূর্ণাঙ্গ আদর্শ। তাঁর জীবন থেকে ক্ষমা, দয়া, সততা, বিনয়, ন্যায়বিচার ও মানবিকতার শিক্ষা পাওয়া যায়।
তিনি আরও বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর আদর্শ অনুসরণ করলে ব্যক্তি ও পারিবারিক জীবনে নৈতিকতা ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হবে। একইভাবে সমাজে ন্যায়বিচার, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এবং মানুষের অধিকার নিশ্চিত করার পথ সুগম হবে। নেতৃত্ব, দায়িত্বশীলতা ও সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রেও মহানবী ﷺ-এর জীবন আমাদের জন্য অনুকরণীয়।
তিনি বলেন, ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র—জীবনের সর্বস্তরে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সুন্নাহ ও আদর্শ বাস্তবায়নের চেষ্টা করতে হবে। শরিয়াহর আলোকে ইবাদত, নৈতিকতা, বিচারব্যবস্থা, অর্থনীতি ও সামাজিক জীবনে সুশৃঙ্খলতা প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন। সুদমুক্ত লেনদেন, যাকাত প্রদান এবং শরিয়াহসম্মত ব্যবসা-বাণিজ্যের মাধ্যমে একটি ন্যায়ভিত্তিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, নবীজির ﷺ আদর্শের আলোকে ব্যক্তি ও পরিবার গড়ে উঠলে সমাজ সুন্দর হবে। আর সমাজ সুন্দর হলে রাষ্ট্রেও শান্তি, ন্যায় ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠিত হবে। দুর্নীতি, দুঃশাসন, মাদক ও বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধের চর্চা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
রবিউল আউয়াল মাসে সবাইকে সীরাত জানার, সুন্নাহ অনুসরণের এবং মহানবী ﷺ-এর আদর্শে জীবন গড়ার আহ্বান জানিয়ে মাওলানা শাহ্ মুহাঃ মাসউদুর রহমান বলেন, মহানবী ﷺ-এর প্রকৃত উম্মত হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে।
তিনি মহান আল্লাহর কাছে মহানবী হযরত মুহাম্মদ ﷺ-এর আদর্শ অনুযায়ী জীবন পরিচালনার তাওফিক কামনা করেন।
মাওলানা শাহ্ মুহাঃ মাসউদুর রহমান
সহ-সভাপতি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ
ময়মনসিংহ জেলা দক্ষিণ শাখা