মুহা. সাইদুল ইসলাম সানাউল্লাহ – স্টাফ রিপোর্টার
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কওমি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জামিয়া আনোয়ারিয়া (মাদ্রাসা ও এতিমখানা), বরমীর বর্তমান মুহতামিম আল্লামা আশেকে মোস্তফা সাহেব (দা.বা.)-কে নিয়ে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগকে কেন্দ্র করে মানববন্ধন করেছেন প্রতিষ্ঠানটির সাবেক শিক্ষার্থী, ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত সুনাম ও দক্ষতার সঙ্গে মাদ্রাসাটির মুহতামিমের দায়িত্ব পালন করে আসছেন আল্লামা আশেকে মোস্তফা সাহেব। সম্প্রতি তাকে কেন্দ্র করে নানা ধরনের বিভ্রান্তি ও ষড়যন্ত্রের চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
মানববন্ধনকারীদের দাবি, আল্লামা আশেকে মোস্তফা সাহেব যেন সম্মানের সঙ্গে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত মাদ্রাসার দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সে জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
এদিকে, বিষয়টি নিয়ে মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটির সদস্য, শ্রীপুর উপজেলা বেফাকের নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় উলামায়ে কেরাম, জামিয়ার সাবেক শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে একটি বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানের বর্তমান মুহতামিম আল্লামা আশেকে মোস্তফা সাহেবকে আজীবন ‘সদরুল মুহতামিম’ হিসেবে বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সভাপতি আলহাজ্ব মো. শাহজাহান ফকিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভার সিদ্ধান্তপত্রে উল্লেখ করা হয়, আল্লামা আশেকে মোস্তফা সাহেব বার্ধক্যজনিত কারণে দায়িত্ব থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানালে উপস্থিত সভাসদরা সর্বসম্মতিক্রমে তাকে জামিয়া আনোয়ারিয়া মাদ্রাসার আজীবন ‘সদরুল মুহতামিম’ হিসেবে রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
সভায় আরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, আল্লামা আশেকে মোস্তফা সাহেবের প্রস্তাবে মাদ্রাসার নায়েবে মুহতামিম ও নাজেমে তালিমাত ইজহারুল ইসলাম মিসবাহ সাহেবকে পদোন্নতি দিয়ে ভারপ্রাপ্ত মুহতামিমের দায়িত্ব দেওয়া হবে।
এছাড়া, অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে আল্লামা আশেকে মোস্তফা সাহেব প্রতিষ্ঠানের বর্তমান শিক্ষকদের বাইরে থেকে একজন যোগ্য, অভিজ্ঞ ও দক্ষ ব্যক্তিকে মাদ্রাসার মুহতামিম হিসেবে মনোনীত করবেন। পরবর্তীতে জামিয়া পরিচালনা কমিটির রেজুলেশনের মাধ্যমে ওই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হবে বলে সভার সিদ্ধান্তে উল্লেখ করা হয়েছে।
সভায় মাদ্রাসাটি বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের বিধি অনুযায়ী পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে সভায় গৃহীত সব সিদ্ধান্ত জামিয়ার পরিচালনা কমিটির রেজুলেশন বইতে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়।
অপরদিকে, মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা জানান, সম্প্রতি মাদ্রাসার উস্তাদদের হাজিরা খাতায় মুহতামিম আল্লামা আশেকে মোস্তফা সাহেবের নাম দেখতে না পাওয়ায় তাদের মধ্যে উদ্বেগ ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়। এ বিষয়টিকে কেন্দ্র করেই তারা মানববন্ধনের আয়োজন করেন।
তবে এ বিষয়ে মাদ্রাসার মুহতামিম আল্লামা আশেকে মোস্তফা সাহেব (দা.বা.) জানান, তিনি ওই সময় ছুটিতে ছিলেন। ছুটিতে থাকার কারণেই হাজিরা খাতায় তার নাম ছিল না বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি বলেন, “আমি ছুটিতে ছিলাম। ছুটিতে থাকাকালীন সময়ে হাজিরা খাতায় আমার নাম না থাকায় বিষয়টি নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন হয়ে মানববন্ধন করেছেন।”
মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব মো. শাহজাহান ফকির বলেন, আল্লামা আশেকে মোস্তফা সাহেব দীর্ঘদিন ধরে এই মাদ্রাসার মুহতামিম হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার দীর্ঘদিনের অবদান ও প্রতিষ্ঠানের প্রতি ভূমিকার প্রতি সম্মান জানিয়ে তাকে আজীবন ‘সদরুল মুহতামিম’ হিসেবে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মাদ্রাসার ঐতিহ্য, শৃঙ্খলা ও সার্বিক স্বার্থ বজায় রেখেই ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় সকল সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
মানববন্ধনকারী সাবেক শিক্ষার্থী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা বলেন, জামিয়া আনোয়ারিয়া বরমী একটি ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির সুনাম ও স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি না করে সংশ্লিষ্ট সকলের আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান হওয়া প্রয়োজন।
তারা আশা প্রকাশ করেন, আল্লামা আশেকে মোস্তফা সাহেবের দীর্ঘদিনের অবদানকে যথাযথ মর্যাদা দেওয়া হবে এবং সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় জামিয়া আনোয়ারিয়া বরমীর ঐতিহ্য ও শিক্ষার পরিবেশ অক্ষুণ্ন থাকবে।